ইন্টার্নশিপে অংশ নেয়ার দাবিতে অনড় রয়েছেন শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। দাবি মানা না হলে তারা কঠোর কর্মসূচিতেও যেতে পারেন।গত বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে তারা এ দাবিতে সকাল থেকে কলেজ সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।শিক্ষার্থীরা জানান, ফাইনাল পেশাগত এমবিবিএস মে-২০২৫ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮৩ জন নব্য চিকিৎসক চার মাস পেরিয়ে গেলেও ইন্টার্নশিপ শুরু করার সুযোগ পাচ্ছেন না। শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নেয়ার অভিযোগ করেন।
তারা বলেন, একই শিক্ষাবর্ষের অন্যান্য মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে ইন্টার্নশিপ শুরু করলেও তাদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করা হচ্ছে। এতে তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দ্রুততম সময়ে ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম চালু না হলে আন্দোলন আরো জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।কলেজের চিকিৎসকরাও দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেছেন, সব একাডেমিক শর্ত পূরণ হওয়ার পরও ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে, যা চরম বৈষম্যমূলক।
জানা গেছে, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ কেন্দ্র থেকে ফাইনাল পেশাগত এমবিবিএস মে–২০২৫ পরীক্ষার ফলাফল গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। এ ফলাফলের ভিত্তিতে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের উত্তীর্ণ ৮৩ জন চিকিৎসক এখনো ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণে যোগ দিতে পারেননি। ফল প্রকাশের পরও সাময়িক রেজিস্ট্রেশন না পাওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন।
তারা জানান, গত ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের অন্যান্য ১৩টি মেডিকেল কলেজের স্বীকৃতি ও সদ্য এমবিবিএস পাসকৃত চিকিৎসকদের ইন্টার্নশিপের অনুমতি দেওয়া হলেও শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের ক্ষেত্রে তা দেওয়া হয়নি। সব ধরনের একাডেমিক ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও এই ৮৩ জন নব্য চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ শুরু না হওয়ার বিষয়টিকে তারা অমানবিক ও বৈষম্যমূলক বলছেন।
শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্টের আওতাধীন শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও দাতব্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই কলেজে বর্তমানে দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করছেন।
Mytv Online